পিঁয়াজের নৈতিক বিকাশের তত্ত্ব – piaget moral development theory

পিঁয়াজের নৈতিক বিকাশের তত্ত্ব (piaget moral development theory)

tet
5000+ WBTET MCQ in Bengali Language. Install & register. completely free of cost
  • পিঁয়াজের নৈতিক বিকাশেরতত্ত্ব : পিঁয়াজে তাঁর নৈতিক বিকাশের তত্ত্বে 4 টি পর্যায়ের কথা বলেছেন –

(i) Anomy (05 বছর) – এই বয়সী শিশুদের আচরণ নৈতিক ম্যান অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয় না। নৈতিক আচরণের জন্য প্রধানত দায়ী হল আনন্দ ও ব্যথা।

(ii) Heteronomy-Authority (5 – 9 বছর) – এই স্তরে নৈতিক আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয় বাহ্যিক কর্তৃত্ব দ্বারা, (বিশেষত প্রাপ্তবয়স্কদের) শাস্তি ও পুরস্কারের মাধ্যমে।

(iii) Heteronomy-Reciprocity (9 – 13 বছর) – এই স্তরে নৈতিক আচরণ দলের (যে দলে বালক একাত্মবোধ করে) সমতের দ্বারা নির্ধারিত হয়।

(iv) Autonomy (13 – 18 বছর) – এই স্তরে যুক্তি, ন্যায়বিচার এবং ব্যক্তিগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাই নৈতিক আচরণের জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী।

  • পিঁয়াজের প্রজ্ঞামূলকবিকাশের তত্ত্বের শিক্ষামূলক তাৎপর্য

আধুনিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তা করার ক্ষমতা বিকাশ করা। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে যুক্তির দ্বারা নিজের সমস্যাবলীর সমাধান করতে পারে, সে ব্যাপারে সহায়তা করা, আধুনিক শিক্ষার একটি প্রধান উদ্দেশ্য। পিঁয়াজের তত্ত্ব আধুনিক শিক্ষণের নীতি নির্ধারণে নানাদিক থেকে সহায়তা করেছে, যেমন –

সমস্যা ভিত্তিক শিক্ষন : পিঁয়াজের তত্ত্বের মূল তাৎপর্য হল, শিখনের উদ্দেশ্য হবে, তথ্য সরবরাহ নয়; যুক্তির দ্বারা তথ্য গ্রহণে সহায়তা করা। চিন্তন ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় করে তুলতে হলে, শিক্ষককে তাদের সামনে সমস্যার আকারে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করতে হবে। তাছাড়া তাদের চিন্তন প্রক্রিয়াকে কার্যকরী করে তোলার জন্য নানা ধরনের সাংকেতিক ও ককল্পনাভিত্তিক খেলার ব্যবস্থা করতে হবে।

মানসিক সক্রিয়তা : পিঁয়াজের তত্ত্বের আর একটি তাৎপর্য হল, তিনি বিকাশের প্রক্রিয়াকে ক্রমোচ্চ বৌদ্ধিক সংগঠনের (Cognitive structure) নির্ণীয়মান প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এই বৌদ্ধিক সংগঠনের নির্মাণ দু’ভাবে হয়। শিশুরা তার পরিবেশের বিভিন্ন অংশে নিয়ন্ত্রণ করে বৌদ্ধিক সংগঠনের পরিবর্তন করতে পারে। অন্যদিকে তারা তাদের বৌদ্ধিক সক্রিয়তার দ্বারাও সংগঠনের পরিবর্তন করতে পারে। তাই শিক্ষণের ক্ষেত্রে এই উভয় দিকের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের, শিক্ষাক্ষেত্রে দৈহিক দিক থেকে সক্রিয় করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক দিক থেকেও সক্রিয় করে তুলতে হবে।

পাঠ্যক্রম নির্বাচন : পিঁয়াজের মতবাদ অনুযায়ী শিশুর শিখনকে কার্যকরী করে তুলতে হলে তার জীবন বিকাশের স্তরের সঙ্গে বিষয়বস্তুকে সামঞ্জস্যভাবে নির্বাচন করতে হবে। প্রাক-সক্রিয়তার পর্যায়ে (Pre-Operational stage ) শিশুরা ভূগোলের মানচিত্রে সাধারণ কতকগুলো বাস্তব সংকেত চিনতে পারে; বাস্তব সক্রিয়তার স্তরের (Concrete Operational  stage) শিশুরা তুলনামূলকভাবে কিছু বিমূর্ত সঙ্কেত বুঝতে পারে। যেমন- দিক, আকৃতি, আপেক্ষিক অবস্থান ইত্যাদি। নিয়মতান্ত্রিক সক্রিয়তার স্তরের (Formal operation stage) শিশুরা কৃষ্টির মধ্যেকার সম্পর্ক, জীবনযাত্রার রীতি ইত্যাদির মতো বিমূর্ত জটিল সঙ্কেতগুলো উপলব্ধি করতে পারে। সুতরাং, এই প্রত্যেক স্তরের বৌদ্ধিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, ভূগোলের পাঠ্যক্রমের বিন্যাস ঘটাতে না পারলে, শিক্ষাকে কার্যকরী করে তোলা যাবে না। সুতরাং পিঁয়াজের এই তত্ত্ব আধুনিক পাঠ্যক্রম নির্ধারণের নীতি নির্বাচনে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।

শিক্ষণ মডেল : পিঁয়াজের তত্ত্ব প্রত্যক্ষভাবে আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতির উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষণের আধুনিক অনেক শিক্ষণ মডেল এই নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পিঁয়াজে বলেছেন, শিশুর বৌদ্ধিক বিকাশ সময়ের অভাব (Lack of equilibrium) থেকে শুরু হয়।