প্রেষণা (Motive) Chapter -1

প্রেষণা-Motive
প্রেষণা (Motive) Chapter – 1

Preshna (Motive)  প্রেষণা

প্রেষণ প্রক্রিয়া  (Motivation ) : ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের চাহিদাকে পরিতৃপ্ত করার জন্য, যে গভীর প্রক্রিয়া তার মধ্যে আচরণ সৃষ্টি করে, নিয়ন্ত্রণ করে এবং তীব্রতার পরিবর্তন করে, উদ্দেশ্য সাধনে সহায়তা করে, তাকেই বলা হয় প্রেষণ প্রক্রিয়া।

 প্রেষণা (Motive) : প্রেষণা হল ব্যক্তির এমন এক অবস্থা যা তাকে উদ্দেশ্যমুখী আচরণে উদ্ভুদ্ধ করে।

“Motives are act or state of him for some goal directed behaviour.”

প্রেষণ প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট
  • চাহিদার প্রভাবে ব্যক্তির মধ্যে যে অভাববোধ আসে তার থেকেই প্রেষণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
  • ব্যক্তির সক্রিয়তার গতি নির্ধারণ করে তার প্রেষণা।
  • ব্যক্তির চাহিদা প্রত্যক্ষভাবে তার সক্রিয়তাকে নিয়ন্ত্রণ করে না।
  • সামাজিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাবে প্রেষণ প্রক্রিয়ার পরিবর্তন হতে পারে।
  • Motive বা প্রেষণা  এবং চাহিদা এক নয়।
  • ব্যক্তি চাহিদা পূরণের জন্য যে আচরণ সম্পাদন করে, তার গতি ও সংরক্ষণ করে ব্যক্তির মধ্যে জাগ্রত প্রেষণ ক্রিয়া (Motivation)।
  • ব্যক্তির চাহিদা এবং তার আচরণের উদ্দেশ্য নির্ধারণের ক্রিয়ার মধ্যে আর একটি প্রবণতা কাজ করে। মনোবিদ্যায় এই মধ্যবর্তী প্রবণতাকে বলা হয় তাড়না (Drive) ।
  • একটি উদ্দেশ্যমুখী কর্মসম্পাদণ বা আচরণ সম্পাদনের ছয়টি পর্যায় –
      • প্রথম পর্যায় : চাহিদা (Need) / অভাববোধ।
      • দ্বিতীয় পর্যায় : তাড়না (Drive) / কর্মশক্তির সঞ্চার।
      • তৃতীয় পর্যায় : প্রেষণা (Motive) /কর্মশক্তির উদ্দেশ্যমুখিতা।
      • চতুর্থ পর্যায় : আচরণ (Behaviour) / উদ্দেশ্যমুখী আচরণ।
      • পঞ্চম পর্যায় : উদ্দেশ্য (Goal) / উদ্দেশ্য লাভ।
      • ষষ্ঠ পর্যায় : চাহিদার নিবৃত্তি (Need reduction)।

  • প্রেষণা (Motive ) সবসময় উদ্দেশ্যমুখী বা লক্ষ্য মুখী।
  • অনেকসময় পরিবেশকে প্রত্যক্ষণের দরুন ব্যক্তির মধ্যে শক্তিদায়ক তাড়নার সৃষ্টি হতে পারে এবং তার দরুন সে আচরণ সম্পাদন করে থাকে এই ধরনের আচরণ উদ্দেশ্যহীন বা লক্ষ্যহীন।
  • ব্যক্তি যখন কর্ম সম্পাদনের জন্য সক্রিয় হয়ে উঠে তখন তার প্রেষণ ক্রিয়া বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন শক্তিতে ক্রিয়াশীল থাকে।
  • প্রেষণ ক্রিয়া (Motivation) ব্যক্তি জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রেষণার শ্রেণীবিভাগ

চাহিদা প্রধান তিনটি শ্রেণীতে বিভাজিত –

ক) জৈবিক চাহিদা (Organic need),

খ) মানসিক চাহিদা (Psychological need) এবং

গ) সামাজিক চাহিদা (Social need)।

চাহিদা যেহেতু প্রেষণার উৎস সেহেতু প্রেষনাকেও তিনটি ভাগে ভাগ করা হয় –

ক) জৈবিক প্রেষণা (Organic Motive),

খ) ব্যক্তিগত প্রেষণা (Personal Motive) এবং

গ) সামাজিক প্রেষণা (Social Motive)।

জৈবিক প্রেষণা (Organic Motive) : মানুষের জন্মগতভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক চাহিদাগুলি  যেমন জল, বাতাস, আলো, খাদ্য ইত্যাদির জন্য প্রত্যক্ষভাবে আচরণ সম্পাদনের পূর্বে তার মধ্যে যে প্রেষণার সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় জৈবিক প্রেষণা।

Sigmond Freud তাঁর মনঃসমীক্ষণবাদে জৈবিক চাহিদাগুলির মধ্যে যৌন চাহিদা অন্তর্ভুক্ত করেছেন।বাস্তবে ব্যক্তির শিখন (Learning) এবং  সামাজিক প্রভাব (Social Influence) তার যৌন প্রেষনাকে (Sex-Motive) নির্ধারণ করে।

ব্যক্তিগত প্রেষণা (Personal Motive)  : মানুষের অহংসত্তায় কেন্দ্রায়িত চাহিদার কারনে সৃষ্ট প্রেষনাকে বলা হয় ব্যক্তিগত প্রেষণা।

সামাজিক প্রেষণা (Social Motive) : মানুষ সামাজিক জীব। মানুষের সামাজিক চাহিদা (Social need)  যেমন নিরাপত্তার চাহিদা, ভালোবাসার চাহিদা, সংযুক্তির চাহিদা ইত্যাদির কারনে সৃষ্ট প্রেষণা হল সামাজিক প্রেষণা।

পরবর্তী অংশ

প্রেষণ ক্রিয়ার তত্বাবলী

প্রেষণ প্রক্রিয়ার নির্ধারক সমূহ

শিখন ও প্রেষণ প্রক্রিয়া

সংশ্লিষ্ট আরো নোটসের জন্য ক্লিক করুন

Current Affairs 2019

2 thoughts on “প্রেষণা (Motive) Chapter -1”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *