Indian Traditional Dances : ভারতীয় নৃত্য

Indian traditional dances
Indian Traditional Dances & Classic Dances & Folk Dances

ভারতীয় নৃত্য Indian Traditional Dances

বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভারতীয় নৃত্যকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয় :-

১। ধ্রুপদী নৃত্য

২। আদিবাসী ও লোকনৃত্য

১। ধ্রুপদী নৃত্য : – মূল ধ্রুপদী নৃত্যের সংগীত নাটক একাডেমী ৮ প্রকারের ভারতের ধ্রুপদী নৃত্যকে ধ্রুপদী নৃত্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়: ভরতনাট্যম (তামিল নাড়ু), কত্থক (উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারত), কথাকলি (কেরল), কুচিপুডি (অন্ধ্র প্রদেশ), ওড়িশি (ওড়িশা), মণিপুরি (মণিপুর), মোহিনীঅট্টম (কেরল), এবং সত্রীয়া (আসাম)।

** তবে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রধান চারটি ধারা হল – ভরতনাট্যম, কত্থক, কথাকলি এবং মণিপুরি ।

Indian Traditional Dances

ভরতনাট্যম : দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে এ নৃত্যকলার উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মন্দিরে নিত্যপূজার সময় বা বিশেষ পূজা অনুষ্ঠানে দেবদাসীরা এই নাচের মাধ্যমে দেবতার কাছে নিজের নিবেদন করতেন।

শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়ায় 64 টি বিশেষ ভঙ্গি আনা হয় এবং সহযোগী বাদ্যযন্ত্র হিসেবে মৃদাঙ্গ , বেহালা, বাঁশি ও একজোড়া করতাল ব্যবহার করা হয়।

ভরতনাট্যমের উল্লেখযোগ্য ভাগ : আলারিপু, জথি-স্মরণ, শব্দম, বর্ণম, পদম, জাভালি এবং থিলানা।

ভরতনাট্যমের বিখ্যাত শিল্পীরা হলেন – বাল সরস্বতী, শান্ত রাও, মৃণালিনী সারাভাই, যামিনী কৃষ্ণমূর্তি, কমলা, বৈজন্তীমালা, সোনাল মোহন সিংহ, সংযুক্তা পানিগ্রাহী, রুক্মিণী দেবী প্রমুখ।

কত্থক : কত্থক শব্দটি এসেছে কথা থেকে। এর অর্থ গল্প বা কাহিনী। কত্থকের মূল কেন্দ্রগুলি হল – লখনৌও, বেনারস, জয়পুর ও দিল্লি।

উত্তর ভারতের উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও মধ্যপ্রদেশে কত্থক নৃত্যের বিশিষ্ট অঞ্চল।

indian traditional dances 2

picture source

সহযোগী বাদ্যযন্ত্র :- একজোড়া তবলা ও সারেঙ্গী।

উল্লেখযোগ্য ভাগ :- টটকর, পলটাস, থোরাস, আমাদ, পরাণ ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য শিল্পী : – বিরজু মহারাজ, সিতারা দেবী, বিন্দ দীন মহারাজ, গোপী কৃষ্ণন, কালকাদিন, আচন মহারাজ, উমা শর্মা প্রভৃতি।

কথাকলি : কথাকলি কেরালার অত্যন্ত জনপ্রিয় নৃত্য। কথাকলি কোন নৃত্য নয়।  এটি নৃত্যনাট্য। এতে এক প্রকার গল্প বলা হয়ে থাকে, যেখানে প্রথাগতভাবে অভিনেতা-নৃত্যশিল্পীরা বিভিন্ন রঙের রূপসজ্জা, পোশাক ও মুখোশ পড়েন।এটি ভারতের মালয়ালম ভাষী দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের (কেরালা) হিন্দু প্রদর্শন কলা।

কথাকলির প্রথাগত বিষয়বস্তু হল হিন্দু মহাকাব্য ও পুরাণে বর্ণিত লোক-পৌরাণিক গল্প, ধর্মীয় কিংবদন্তি, ও আধ্যাত্মিক ধারণা। আগে এতে নারীদের অন্তর্ভুক্তি ছিল না কিন্তু বর্তমানে বা আধুনিক রীতিতে ভারতীয় কথাকলি দলে নারী শিল্পীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশিষ্ট শিল্পী :- গুরু কৃষ্ণ কুট্টি, কণক গেলে, রাঘবন প্রমুখ।

Indian Traditional Dances

মণিপুরী : মণিপুর রাজ্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় নৃত্য। মণিপুরী মূলত ঈশ্বর আরাধনার নাচ। মণিপুরী নৃত্যশৈলীর নানান ধারার সমষ্টিগত নাম মণিপূরী নর্তন বা ‘মৈতৈ জগোই’।

প্রথমদিকে এই নৃত্যের মূল দুটি চরিত্র ছিল – শিব ও দূর্গা। পরবর্তী সময়কালে (১৭০০ খ্রিস্টাব্দের পাশাপাশি সময়কাল থেকে) কৃষ্ণ ও রাধাকেও মণিপুরী নৃত্যের চরিত্র হিসেবে ধরা হয়।

মনিপুরী নৃত্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য : লাইহারাউবা নৃত্য বা রাসনৃত্য-এর উপস্থাপনের বিষয় যাই হোক, নাচের ভঙ্গী প্রায় একই।

সবসময় নারী-পুরুষ দুটি চরিত্রে অংশ নেয়।

এই নৃত্যশৈলীতে একক দেহভঙ্গিমাকে বলা হয় ভঙ্গী আর বিভিন্ন ভঙ্গীর সমষ্টিগত রূপ হলো ভঙ্গিপারেঙ। মণিপুরী নৃত্যশৈলীতে চারপ্রকার ভঙ্গী ব্যবহৃত হয়। এগুলো হলো−

সমভঙ্গ, আভঙ্গ, ত্রিভঙ্গ ও অতিভঙ্গ।এই চারটি ভঙ্গীর সমন্বয়ে মিশ্রণে ভঙ্গিপারেঙ গঠিত হয়।ভঙ্গিপারেঙ পাঁচ প্রকার। এই প্রকারগুলো হলো- অছুবা, খুড়ুম্বা, বৃন্দাবন, গোষ্ঠ ও গোষ্ঠ বৃন্দাবন।

পোষাক : মনিপুরী নৃত্য শিল্পীরা ‘কামিল’ নামক পোশাক ব্যবহার করেন। এই পোশাকে ছোটো ছোটো আয়না বসানো থাকে।

সহযোগী বাদ্যযন্ত্র : মণিপুরী নৃত্যে তালযন্ত্রের অন্তর্গত আনদ্ধ যন্ত্র হলো-  পুঙ, ইয়াবুঙ, হারাপুঙ, তানইবুঙ, নাগনা, খোল, ঢোলক, দফত, খঞ্জরী, পাখোয়াজ ও ঢোল।ঘনবাদ্যের অন্তর্গত – সেমবুঙ, ঝালারি, মঙগঙ, জাল, করতাল, রমতাল ইত্যাদি। তত যন্ত্রের অন্তর্গত – পেনা, এস্রাজ, তানপুরা।সুষি-যন্ত্রের অন্তর্গত – বাঁশি, ময়বুঙ, পেরে ও খঙ।

বিশিষ্ট শিল্পী : গুরু বিপিন সিং, দর্শনা জাভেরি প্রমুখ।

কুচিপুড়ি : কুচিপুড়ি ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যের প্রধান আটটি নৃত্যশৈলীর একটি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের জনপ্রিয় নৃত্য। এটি অন্ধ্রপ্রদেশের কুচিপুড়ি গ্রামে উৎপত্তি। ভরতনাট্যমের সঙ্গে অনেক মিল থাকলেও এর লয় ভরতনাট্যম অপেক্ষা দ্রুত।

অদ্বৈত বেদান্ত’র সন্ন্যাসী তীর্থ নারায়ণ যতি ও তার শিষ্য সিদ্ধেন্দ্র যোগি ১৭শ শতাব্দীতে কুচিপুড়ির আধুনিক রূপের প্রবর্তন ও কৌশল প্রণয়ন করেন।

Indian Traditional Dances

ওড়িশি : ওড়িশি পূর্ব ভারতের ওড়িশা রাজ্যের একটি শাস্ত্রীয় নৃত্যশৈলী। ওড়িশি নৃত্যে ত্রিভঙ্গি (মাথা, বুক ও শ্রোণীর স্বতন্ত্র সঞ্চালনা) এবং চৌকা (মৌলিক চতুষ্কৌণিক ভঙ্গিমা) – এই দুয়ের উপর অতিরিক্ত গুরুত্বারোপ ওড়িশিকে অন্যান্য শাস্ত্রীয় নৃত্যশৈলী থেকে পৃথক করেছে।

পোষাক : উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, আঁটোসাঁটো ব্লাউজ।

সহযোগী বাদ্যযন্ত্র : মাদল, পাখোয়াজের, ড্রাম, করতাল, বাঁশি, তারযন্ত্র।

সনাতন ওড়িশি নৃত্য কিছু অঙ্গ ও শৈলীগুলির সমন্বয়ে গঠিত।  যথা – মঙ্গলাচরণ, বাট্টু নৃত্য, পল্লবী, অভিনয়, দশাবতার ও মোক্ষ।

মোহিনীআট্টম : এটি কেরালার বিশিষ্ট ধ্রুপদী নৃত্য। “মোহিনীঅট্টম” শব্দটির আক্ষরিক অর্থ “মুগ্ধকারিনীর নৃত্য”। শব্দটির উদ্ভব “মোহিনী” (“যে নারী নিজরূপে সকলকে মুগ্ধ করে”) এবং “অট্টম” (“সৌন্দর্য ও লাস্যময়ী অঙ্গভঙ্গি”) শব্দদ্বয়ের সংযোজনে।

সত্রীয়া : সত্রীয়া নৃত্য ভারতের সংগীত নাটক একাডেমী যে আটটি নৃত্যকে শাস্ত্রীয় হিসাবে মর্যাদা প্রদান করেছে তারমধ্যে অন্যতম। সত্রীয়া নৃত্যের ‘সত্রীয়া’ শব্দটি ‘সত্র’ থেকে এসেছে। মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেব প্রতিষ্ঠিত সত্রসমূহের যোগে প্রায় ১৫ শ শতকে এই নৃত্যধারা অসমে প্রচলিত হয়।

পরম্পরাগতভাবে সত্রসমূহে এই নৃত্য শুধুমাত্র পুরুষ ভক্তদের (অসমীয়া সংকৃতির বৈষ্ণব শ্রেনীর লোক) মাঝে আবদ্ধ ছিল। কিন্তু আধুনিক মঞ্চের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই নৃত্য পুরুষ মহিলা উভয়ের  পরিবেশনের প্রচলন শুরু হয়।

Indian Traditional Dances
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিশিষ্ট আদিবাসী ও লোকনৃত্য (Folk Dance)
রাজ্যের নাম আদিবাসী ও লোকনৃত্য
আসাম বৈশাখ বিহু, বিহু, ওজাপলি  , খেল গোপাল, রাখাল লীলা, তবল চোঙলি
বিহার কথাপুটলি, বাখো, ছৌ, জাতা যতীন, যদুর ঝিঝিয়া, করম, যাত্রা, নাটুয়া প্রভৃতি।
পশ্চিমবঙ্গ কাঠি, ছৌ, বাউল, কীর্তন, যাত্রা প্রভৃতি।
মহারাষ্ট্র কথাকীর্তন, লেজিম, দন্ডনীয়া, তামাশা, গবন, দহিকলা, লোভনি, মৌনি, দশবতার প্রভৃতি।
কর্ণাটক কুনিথা, হুটারি, সাগু, যক্ষগন প্রভৃতি।
কেরালা কৈকোত্তিকালী, কালিয়াত্তম, তপতীকালি, কড়িয়াট্টম, কৃষ্ণভট্টম, মুদিভেটু, চাভিত্তি নাটকম প্রভৃতি।
গুজরাট গরবা, অর্ব, দন্ডিয়া রাস, তিপ্পনি, গমপ প্রভৃতি।
রাজস্থান গিনড, চকরি, গঙার, তেরাহত্তাল, খয়াল, ঝুলন লীলা, ঝুম, সুইসিনি।
উত্তরপ্রদেশ নৌটঙ্কী, ঝোরা, চাপেলি, রাসলীলা, কাজরী, করন প্রভৃতি।
জম্বু ও কাশ্মীর রাউফ, হিকত, চাকরি, ইত্যাদি।
হিমাচলপ্রদেশ ঝোরা, ঝালি, ডাঙ্গি, মাহাসু, জাড্ডা, ছরহা, মুনজরা ইত্যাদি।
হরিয়ানা ঝুমর, রাসলীলা, ফাগনৃত্য, দাফ, ধামাল, লুর, গুগা, খোরিয়া, গগর ইত্যাদি।
তামিলনাড়ু কোলাত্তাম, কুমি বা কুমনি, থেরুকটু, কাভাদি, কারাগাম প্রভৃতি।
অন্ধ্রপ্রদেশ গন্থ মরদালা, বিদি, নাটকম, বুরকথ প্রভৃতি।
ওড়িশা গুমর সঞ্চার, চাড্য দন্দনাট, ভাকওয়াতা, ছৌ ইত্যাদি।
পাঞ্জাব গিদ্দা বা গিদ্ধ (মহিলা), ভাঙড়া (পুরুষ)।
মধ্যপ্রদেশ মাচা, লোটা, পান্তবনি
মিজোরাম চিরো
Indian Traditional Dances
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কিছু লোকনৃত্য
লোকনৃত্য জেলা, অংশগ্রহণকারী ও বৈশিষ্ট্য
মুখা খেল
পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার একটি বিশেষ প্রসিদ্ধ লোকনৃত্য। রাজবংশী সম্প্রদায়ের পুরুষরা অংশগ্রহণ করেন।
মেছেনি খেল
উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মহিলাদের গ্রামীন লোকাচারকেন্দ্রিক নৃত্যগীত। মূলত পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় তিস্তাবুড়ির ব্রতপূজা উপলক্ষে এই নাচগান অনুষ্ঠিত হয়।
গম্ভীরা নৃত্য
পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় গম্ভীরা উৎসবে মুখোশ পরে বা মুখোশবিহীনভাবে পরিবেশিত একক বা দলবদ্ধ নৃত্য। রাজবংশী, পোলিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এই নাচের প্রচলন রয়েছে।
ভাঁজো নাচ
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম এবং তৎসংলগ্ন পূর্ব বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বাঙালি হিন্দু মহিলাদের একটি ব্রতাচারমূলক সারিনৃত্য। ভাদ্র মাসের শুক্লাদ্বাদশীর থেকে পরপর আটদিন ইন্দ্রপূজা ও ভাঁজো পাতাকে কেন্দ্র করে গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।
কালী নাচ
মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার ইত্যাদি অঞ্চলে এই নাচ প্রচলিত ছিল।

ছৌ

পুরুলিয়া। **ছৌ এবং গম্ভীরা মুখোশ পরে নাচ।
General Study

History

Geography