স্মৃতি / স্মরণ-ক্রিয়া (MEMORY) Part – II

স্মৃতি / স্মরণ-ক্রিয়া (MEMORY) Part – I এর জন্য নিচে লিংক দেওয়া আছে।

***** স্মরণশক্তি বা ধারণ ক্ষমতা পরিমাপের পদ্ধতি ** ***
Job Preparation
WB Primary TET-এর মক টেষ্টের জন্য আমাদের Apps ‘Job Preparation’ ডাউনলোড
  • স্মৃতির পরিসর
  • সংখ্যা-ধারণ পদ্ধতি
  • শিখন-নির্ভর পদ্ধতি
  • ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি
  • সঞ্চয় পদ্ধতি
  • প্রত্যভিজ্ঞা পদ্ধতি
  • পুনর্গঠনের পদ্ধতি

##  লা (Luh) এর মতে স্মৃতির পরিমাপ করার ক্ষেত্রে ভুল সংশোধন পদ্ধতি (Anticipation or Prompting) হল সবচেয়ে কঠিন পদ্ধতি এবং প্রত্যভিজ্ঞা পদ্ধতি (Recognition method) হল সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।

## স্মৃতির পরিসর :  মনোবিদ জ্যাকবস (Jacobs) এর মতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণের পরিমানের মধ্যে পার্থক্য তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত মানসিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের জন্য হয়। অর্থাৎ ধারনের পরিমান ব্যক্তি বিশেষে সীমাবদ্ধ। একেই তিনি বলেছেন স্মৃতির পরিসর।

 

ধারণ ক্রিয়া যে সব বিষয়ের উপর নির্ভর করে :

ক) শিক্ষার পরিমাণ (Amount of learning)

খ) শিখন পদ্ধতি (Method used in learning)

গ) অধীত বস্তুর পরিমাণ (Amount to be learned)

ঘ)  অধীত বস্তুর বিষয়বস্তু (Characteristics of the material)

ঙ) অধীত বস্তুর উজ্জ্বলতা (Vividness)

ইত্যাদি

স্মৃতির শ্রেণীবিভাগ (Classification of memory)

  • শিখন কৌশল অনুযায়ী :মনোবিদ বার্গসঁ(Bergson) স্মৃতিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন – অভ্যাসগত স্মৃতি ও প্রকৃত স্মৃতি।

 

অভ্যাসগত স্মৃতি : না বুঝে বার বার পুরাবৃত্তির মাধ্যমে যখন আমাদের শিখন হয় এবং সেই শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা যখন আমরা পরবর্তীকালে স্মরণ করি, তাকে বলা হয় অভ্যাসগত স্মৃতি বা যান্ত্রিক স্মৃতি

প্রকৃত স্মৃতি : বিষয়বস্তুর হৃদয়ঙ্গমের ফলে আমরা যখন মানসিক কল্পের সাহায্যে বস্তুকে স্মরণ করি, তখন তাকে বলা হয় প্রকৃত স্মৃতি বা তার্কিক স্মৃতি বা যুক্তি প্রতিষ্ঠিত স্মৃতি

  • স্থায়িত্ব কাল অনুযায়ী :

স্থায়িত্ব কাল অনুযায়ী স্মৃতি দুইপ্রকার – তাৎক্ষণিক স্মৃতি ও স্থায়ী স্মৃতি।

      তাৎক্ষণিক স্মৃতি : শিখনের স্বল্প সময়ের ব্যবধানে স্মরণ করাকে বলা হয় তাৎক্ষণিক স্মৃতি।

      স্থায়ী স্মৃতি : কোনো কিছু অভিজ্ঞতা গ্রহণ করার পর দীর্ঘ সময় পরে স্মরণ করাকে বলা হয় স্থায়ী স্মৃতি।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক স্মৃতিকে কার্যকরী করার জন্য যে প্রবণতা দেখা যায় তা দূর করার ব্যাপারে শিক্ষক সচেষ্ট হতে হবে।
  • অভিজ্ঞতা মাধ্যম অনুযায়ী :

স্মৃতিকে মাধ্যমের দিক থেকে দুইভাগে ভাগ করা হয় – ব্যক্তিগত স্মৃতি ও নৈব্যর্ক্তিক স্মৃতি।

       ব্যক্তিগত স্মৃতি : আমরা প্রত্যক্ষভাবে যে সব অভিজ্ঞতা অর্জন করি এবং স্মরণ করি, তাকে বলা হয় ব্যক্তিগত স্মৃতি।

       নৈব্যর্ক্তিক স্মৃতি : আমাদের বেশিরভাগ অভিজ্ঞতা আসে অন্যের কাছ থেকে বা বই পড়ে। এইসব অভিজ্ঞতার স্মরণকে বলা হয় নৈব্যর্ক্তিক স্মৃতি।

  • ইন্দ্রিয় বা সংবেদনগত দিক দিয়ে :সংবেদনগত দিক দিয়ে স্মৃতিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয় – দর্শনগত স্মৃতি, শ্রবণগত স্মৃতি, স্পর্শগত স্মৃতি, ঘ্রানজাত স্মৃতি এবং স্বাদমূলক স্মৃতি
  • মানসিক ইচ্ছাজাত :

    মানসিক ইচ্ছাজাত হিসেবে স্মৃতিকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয় – সক্রিয় স্মৃতি ও নিষ্ক্রিয় স্মৃতি।

    সক্রিয় স্মৃতি : যখন শিক্ষার্থীরা মনে রাখার জন্য নিজেদের মানসিক ইচ্ছা বিশেষভাবে প্রয়োগ করে, তখন তাকে বলা হয় সক্রিয় স্মৃতি।

    নিষ্ক্রিয় স্মৃতি : যখন কোনো অভিজ্ঞতাকে পুনরুদ্রেক করার জন্য শিক্ষার্থীর সক্রিয় মানসিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়না, তখন তাকে বলে নিষ্ক্রিয় স্মৃতি।

    # শিক্ষাক্ষেত্রে সক্রিয় স্মৃতিই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    *** সবিরাম শিখন স্মরণ প্রক্রিয়ার সহায়ক।

বিস্মৃতির কারণ :

অধীত বস্তুর গুণ, ঠিকমতো না শেখা, মস্তিষ্কে আঘাতের দরুন অচৈতন্য হওয়া, ওষুধের ক্রিয়া, ইনহিবিশান, দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য কাজের প্রভাব, অবসাদ, অবচেতন মনে অবদমন ইত্যাদি।

## ইনহিবিশান : কোন কিছু জিনিস শেখার পর আবার কোন নতুন জিনিস শিখলে দেখা যায় যে, শেষ বা বর্তমান বিষয়বস্তু, পূর্বের বিষয়বস্তুকে ভুলিয়েদিতে সাহায্য করে।  একেই মনোবিজ্ঞানীরা ইনহিবিশান বলেছেন।

 

One reply on “স্মৃতি / স্মরণ-ক্রিয়া (MEMORY) Part – II”

Comments are closed.

backspace
caps lock enter
shift shift
Virtual keyboard by Loderi.com   « » { } ~
RSS
Follow by Email
YouTube
YouTube