স্মৃতি / স্মরণ-ক্রিয়া (MEMORY) Part – I

স্মরণ-ক্রিয়া / স্মৃতি (MEMORY), শিখন বা স্থিতিকরণ (Learning or Fixation), ধারণ ক্রিয়া(Retention), পুনরুদ্রেক(Recall) ও প্রত্যাভিজ্ঞা(Recognition)। অনুষঙ্গ

স্মৃতি

স্মরণ-ক্রিয়া / স্মৃতি (MEMORY) Part – I

job preparatioh
WB Primary TET-এর মক টেষ্টের জন্য আমাদের Apps ‘Job Preparation’ ডাউনলোড
  • স্মরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক আলোচনার সূত্রপাত করেন মনোবিদ এবিংহস্ (Ebbinhaus) ।
  • 1885 খ্রিস্টাব্দে এবিংহস্ ‘On Memory’ নামে বই প্রকাশ করেন।
  • “যে প্রক্রিয়া দ্বারা আমরা পূর্বে শেখা কোন কাজকে সেই একইভাবে পরবর্তীকালে সম্পাদন করতে পারি, তাই হল স্মৃতি (Doing what one has learned to do)।” – উডওয়ার্থ (woodworth)
  • আধুনিক সংব্যাখ্যান অনুযায়ী স্মরণ প্রক্রিয়া বা স্মৃতি চারটি মৌলিক প্রক্রিয়ার সমবায়। এগুলিকে বলা হয় স্মৃতির উপাদান।  এই উপাদানগুলি হল – (১) শিখন বা স্থিতিকরণ (Learning or Fixation), (২) ধারণ ক্রিয়া(Retention), (৩) পুনরুদ্রেক(Recall) ও (৪)প্রত্যাভিজ্ঞা(Recognition)।
  • স্মৃতির উপাদান বা প্রক্রিয়া :-

  1. স্মৃতির প্রথম প্রক্রিয়া : শিখন

     কোন অভিজ্ঞতা বা কর্ম প্রকৃতিকে স্মরণ করতে হলে সর্বপ্রথম যে মানসিক প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে হয় তাই হল শিখন।

## শিখন প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট, যা স্মরণ ক্রিয়ার দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ, তা হল – এটি একটি ক্ৰমবৰ্ধমান প্রক্রিয়া (Gradual Process)।

  1. স্মৃতির দ্বিতীয় প্রক্রিয়া : ধারণক্রিয়া

* শিখন অভিজ্ঞতার যেটুকু অংশ সংরক্ষিত হয় সেইটুকু মানুষের স্মৃতি হয়ে দাঁড়ায়। অভিজ্ঞতা সংরক্ষনের ব্যাপারে যে মানসিক প্রক্রিয়া কাজ করে তাকেই মনোবিদগণ ধারণক্রিয়া বলেছেন।

* শিখনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর চেতনায় যে অভিজ্ঞতা অবস্থান করে এবং বিশেষ সময়ের ব্যবধানে সে যতটুকু অভিজ্ঞতাকে চেতনায় পুনঃস্থাপন করতে পারে তাদের এই ব্যবধানকেই বলা হয় তার সংরক্ষণ বা ধারণ।

* ব্যবহারিক অর্থে ধারণক্রিয়াকে বলা হয় স্মৃতি শক্তি।

  1. স্মৃতির তৃতীয় প্রক্রিয়া : পুনরুদ্রেক

* পুনরুদ্রেক(Recall) বলতে আমরা সেইসব মানসিক প্রক্রিয়াকে বুঝি যেগুলো আমাদের শিক্ষণলব্ধ অভিজ্ঞতাকে প্রত্যক্ষ উদ্দীপকের অবর্তমানে, মানসিক কল্পের সহায়তায় পুনরায় চেতনায় আনতে সহায়তা করে।

* পুনরুদ্রেক হল এমন এক মানসিক ক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সংরক্ষিত অতীত অভিজ্ঞতাকে চেতনায় পুনঃস্থাপন করে।

* পুনরুদ্রেককে স্মৃতির প্রয়োজনীয় অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

* পুনরুদ্রেকের কারণ হিসেবে মনোবিদগন অনুষঙ্গকে (Association) নির্দেশ করেছেন।

অনুষঙ্গ : অনুষঙ্গ বলতে মনের সেই বিশেষ গুনকে বলা হয়, যা অতীতের দুটো ঘটনা, অভিজ্ঞতা বা ধারণার মধ্যে এমন যোগসূত্র স্থাপন করে যে তাদের যে কোন একটি চেতনায় উপস্থাপিত হলে, অপরটি সঙ্গে সঙ্গে চেতনায় উপস্থাপিত হয়।

** যে অভিজ্ঞতার বর্তমানে অন্য অভিজ্ঞতার পুনরুদ্রেক হয় তা হল পুনশ্চৈতন্যকারী অভিজ্ঞতা বা ধারণা (Reviving ideas) এবং যে অভিজ্ঞতার পুনরুদ্রেক হয় তা হল পুনশ্চেতন অভিজ্ঞতা বা ধারণা (Revived idea)।

** অনুসঙ্গসম্পন্ন অভিজ্ঞতাগুলি যে তিন ধরনের বন্ধন সৃষ্টি করে সে অনুযায়ী সংযোগের তিনটি সূত্র।

ক) সান্নিধির সূত্র (Law of contiguity), খ) সাদৃশ্যের সূত্র (Law  of similarity) ও (গ) বৈসাদৃশ্যের সূত্র (Law of contrast)

** অনুষঙ্গের সামান্য বিভিন্নতা অনুযায়ী পুনরুদ্রেককে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় – (ক) প্রত্যক্ষ পুনরুদ্রেক ও (খ) পরোক্ষ পুনরুদ্রেক।

  1. স্মৃতির চতুর্থ প্রক্রিয়া : প্রত্যাভিজ্ঞ
* কোন একজন লোককে রাস্তায় দেখে যদি আমাদের মনে পড়ে যে, ছোটবেলায় সে আমার সঙ্গে স্কুলে পড়ত, তখন তাকে বলা হয় প্রত্যভিজ্ঞা।

* যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি কোনো উদ্দীপককে পূর্ব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সংযুক্ত করে তাকে বলে প্রত্যাভিজ্ঞ প্রক্রিয়া ।

* প্রত্যাভিজ্ঞা প্রক্রিয়া হল এক বিশেষ ধরনের প্রত্যক্ষণ ক্রিয়া। কোনো বিশেষ বস্তুর বর্তমানে তাকে সঠিকভাবে বস্তু হিসাবে বা পূর্বাজিত অভিজ্ঞতা হিসাবে ব্যক্তি চিনতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যক্তির মানসিক ক্রিয়া বস্তুগত উদ্দীপনার সঙ্গে সংযুক্ত।

## এবিংহস্ (Ebbinhaus) স্মরণ-ক্রিয়ার পরীক্ষাকে নৈর্ব্যক্তিক (Objective) করার জন্য এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকে সংযোগ (Association ) মুক্ত করার জন্য তিনি সব ক্ষেত্রেই অর্থবিহীন বর্ণসমষ্টি (Nonsense Syllable) ব্যবহার করেছেন।

One thought on “স্মৃতি / স্মরণ-ক্রিয়া (MEMORY) Part – I”

Comments are closed.